Monday, December 8, 2025

বাংলার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ মামলা: চন্দ্রচূড়ের বিদায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে অমীমাংসিত রয়ে গেল

Share

বাংলার পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ মামলা অমীমাংসিতচন্দ্রচূড়ের

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর থেকে তাঁর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় প্রদান করেন। তবে শুক্রবার ছিল তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন, এবং বাংলার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়ে গেল অমীমাংসিত। তাঁর বিদায়ের পর, দেশের প্রধান বিচারপতি হিসাবে বিচারপতি সঞ্জীব খন্না আগামী সোমবার শপথ নেবেন। চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে শুনানির পরও নিষ্পত্তি হয়নি এই পাঁচটি মামলার।

আরজি কর মামলার ধর্ষণ ও খুন সংক্রান্ত মামলা

এই মামলাটি আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন সংক্রান্ত, যা চন্দ্রচূড়ের তত্ত্বাবধানে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। গত ১৮ অগস্ট মামলাটি শীর্ষ আদালতে যায় এবং ২০ অগস্ট প্রথম শুনানি হয়। সম্প্রতি চন্দ্রচূড় এই মামলার তদন্তে সিবিআইয়ের রিপোর্ট দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নির্যাতিতার নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেন এবং হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা বসানোর মাধ্যমে নিরাপত্তা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। এই মামলায় চন্দ্রচূড়ের একাধিক পর্যবেক্ষণ থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল মামলা

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১২ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের জন্য কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশনা জারি করেছিল। দুর্নীতির অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার হাই কোর্টের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ এই মামলাটি শুনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ওবিসি নির্ধারণের ভিত্তি এবং শংসাপত্র প্রদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। এই মামলাটি চলমান, এবং ১৩ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে।

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি: ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলা

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে এসএসসি নিয়োগে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। হাই কোর্টের রায় অনুযায়ী এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয় এবং নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্য সরকার, এসএসসি, এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ আলাদা করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ এই মামলায় হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর ২৬ হাজার চাকরির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন। ১৯ নভেম্বর এই মামলায় পুনরায় শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজভবনে শ্লীলতাহানি সংক্রান্ত মামলা

গত জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজভবনে এক মহিলা কর্মী শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন এবং রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগ আনেন। এই মামলা শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল এবং প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে শুনানি হয়। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে এই মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দেন। তবে এই মামলায় কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং মামলাটি এখনও অমীমাংসিত।

মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি নিয়ে বিতর্ক

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত মামলাটি সিবিআই তদন্ত নিয়ে উচ্চ আদালতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন এবং বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে। এরপর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এই সংঘাতের পর, সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে মামলাটি শুনে এবং কলকাতা হাই কোর্ট থেকে মেডিক্যাল ভর্তির মামলা সরিয়ে নেয়। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে না নিয়ে এগিয়েছিল। ১৮ নভেম্বর এই মামলায় শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলি নিয়ে শীর্ষ আদালতে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ।

Read more

Local News