বাংলাতেও ব্যালট পেপার আমেরিকার নির্বাচনে
এই বছরের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলা ভাষা। প্রথমবারের মতো, বাংলা ভাষা জায়গা করে নিয়েছে নিউ ইয়র্কের ব্যালট পেপারে। নিউ ইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রদেশে শুধুমাত্র বাংলা ভাষাকে প্রথম এশীয় ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমেরিকাস্থিত প্রায় এক লক্ষ বাংলাভাষীর জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের বিষয় এবং বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক গুরুত্বও এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নিউ ইয়র্কের ব্যালট পেপারে বাংলা
আমেরিকার প্রাদেশিক প্রশাসন সাধারণত বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখেই ব্যালট পেপারে ভাষার অন্তর্ভুক্তি নির্ধারণ করে। নিউ ইয়র্কে প্রায় এক লক্ষ বাংলাভাষী মানুষের বাস এবং এদের বেশির ভাগ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। বাঙালিদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোটের অধিকারও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এবার বাংলা ভাষাকে ব্যালট পেপারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোটাররা এবার তাদের মাতৃভাষায় প্রার্থীদের নাম এবং দলের পরিচয় পড়তে পারবেন, যা আমেরিকার মত বহুভাষিক দেশে একটি বড় পদক্ষেপ।
বাংলা ব্যালটের পেছনের কারণ
নিউ ইয়র্কের কুইনস, ব্রুকলিন, এবং ব্রঙ্কসে বাংলা ভাষাভাষীদের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী রয়েছে। এর মধ্যে ব্রুকলিনের কেনসিংটন এলাকা অনেকের কাছে ‘ছোট বাংলাদেশ’ নামেও পরিচিত। এই এলাকাগুলির মানুষের ভোটাধিকার প্রক্রিয়াকে সহজতর করতেই নিউ ইয়র্ক প্রশাসন ব্যালটে বাংলা ভাষা যুক্ত করেছে। বাংলায় ব্যালট থাকার কারণে অনেক বাঙালি ভোটার আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এটি শুধু ভাষার প্রতি সম্মান নয়, বরং বৃহৎ বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভোটিং প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকেও উৎসাহিত করছে।
দুই প্রতিদ্বন্দ্বী: ট্রাম্প বনাম কমলা
এবারের নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। যদিও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মূলত দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে প্রবাসী বাঙালিরা এই প্রতিযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্পের গতিশীল এবং সমালোচিত শাসনকালের অভিজ্ঞতা এবং কমলার প্রগতিশীল ভাবমূর্তি তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের বাঙালি সম্প্রদায় এ দু’জনের মধ্যে কাকে সমর্থন করবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কমলার ভারতীয়-মূল এবং তার প্রগতিশীল ধারণা অনেক বাঙালির কাছেই জনপ্রিয়। আবার কিছু অংশ ট্রাম্পের আমেরিকা-বান্ধব নীতি এবং তার প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে তার পক্ষে মত দিচ্ছেন। ফলে এই নির্বাচনে বাঙালি ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রবণতা এবং পছন্দ, নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আমেরিকায় আগাম ভোট এবং বাঙালির ভূমিকা
আমেরিকার ৫০টি প্রদেশের প্রতিটিতেই ভোটিংয়ের আলাদা আলাদা নিয়ম রয়েছে। বেশিরভাগ প্রদেশে এখন আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা আর্লি ভোটিং নামে পরিচিত। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই আগাম ভোটের প্রথম দিনে প্রায় এক কোটি ৪০ লক্ষ আমেরিকান ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের বাঙালিরাও রয়েছেন। এ বছর প্রায় ৪০টি প্রদেশ আগাম ভোটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করছে, যেখানে বাঙালি ভোটারদের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে।
প্রবাসী বাঙালিরা এবার সশরীরে পোলিং স্টেশনে গিয়ে অথবা ডাক মারফত আগাম ভোট দিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু নতুন ভোটারও অংশ নিয়েছেন। নিউ ইয়র্কের বাঙালিদের মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে প্রবাসী বাঙালিদের ভোটাধিকারের প্রতি সচেতনতা।
বাঙালি ভোটারদের অংশগ্রহণের ভবিষ্যৎ
বাঙালি ভোটাররা এবার নিউ ইয়র্কের ব্যালটে বাংলা ভাষা দেখতে পেয়ে অভিভূত হয়েছেন। বাংলায় ব্যালট থাকার ফলে তাদের মধ্যে আস্থা এবং গর্বের ভাব বেড়েছে। আগামী নির্বাচনে আরও বেশি প্রদেশ এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে বলে অনেকেই আশা করছেন। কারণ বাঙালি ভোটারদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে এবং তাদের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
নিউ ইয়র্কে বাংলা ব্যালট পেপার অন্তর্ভুক্তির এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, বাঙালিরা আমেরিকার মত বৈচিত্র্যময় দেশে একটি বিশেষ অবস্থান তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রে মাতৃভাষায় ভোট দেওয়ার সুযোগ, বাঙালিদের কেবল ভোটের অধিকার প্রয়োগে নয়, বরং তাদের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান এবং ভালোবাসাও তুলে ধরছে।

