বাঁদরের ধাক্কায় ছাদ থেকে পড়ে কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু
বিহারের সিওয়ান জেলার ভগবানপুর থানা এলাকার এক মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারাল দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। গ্রামের বাড়ির ছাদে বসে পড়াশোনা করার সময় বাঁদরের আক্রমণে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় কিশোরী প্রিয়া কুমারের। সামনের বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার, কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেল।
মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিবরণ
ভগবানপুর থানার অন্তর্গত মঘার গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়া কুমার শনিবার দুপুরে শীতের রোদ পোহাতে বাড়ির ছাদে বসে পড়াশোনা করছিল। হঠাৎ করেই বাঁদরের একটি দল ছাদে উঠে আসে। বাঁদরগুলো দেখে ভয় পেয়ে যায় প্রিয়া। সিঁড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বাঁদরদের আচমকা ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে সে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়। বাড়ির উঠোনে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় প্রিয়া।
তৎক্ষণাৎ তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবার শোকে ভেঙে পড়ে। প্রিয়ার মা-বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, আর গোটা গ্রামে নেমে এসেছে নীরব শোকের ছায়া।
পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ
মাত্র ১৬ বছরের প্রিয়া তার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গ্রামের স্কুলে সে ছিল মেধাবী ছাত্রী। পড়াশোনায় তার আগ্রহ ও কৃতিত্বের জন্য সে পরিবারের গর্ব ছিল। তবে ভাগ্যের এই নিষ্ঠুর পরিহাসে এক সম্ভাবনাময় জীবনের অবসান ঘটল।
গ্রামে বাঁদরের উৎপাত
মঘার গ্রাম এবং তার আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাঁদরের উৎপাত চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাড়ির ছাদে কিংবা উঠোনে হঠাৎ বাঁদরের দল ঢুকে আসে এবং জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়। অনেক সময় তারা মানুষকেও আক্রমণ করে। প্রিয়ার মৃত্যুর পর গ্রামবাসীরা প্রশাসনের কাছে এই সমস্যার সমাধানের জন্য আবেদন জানিয়েছে।
শোক ও প্রশ্ন
প্রিয়ার অকালমৃত্যু শুধু তার পরিবার নয়, গোটা গ্রামবাসীর মনে গভীর দাগ কেটেছে। এই দুর্ঘটনা প্রশাসনের প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—কেন বাঁদরদের এই অস্বাভাবিক আচরণ এবং আক্রমণ রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? স্থানীয় মানুষজনের মতে, বাঁদরদের নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এমন আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
শীতের দুপুরে অজানা বিপদ
প্রিয়ার মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কত সাধারণ একটি মুহূর্তও মর্মান্তিক রূপ নিতে পারে। ছাদে বসে রোদ পোহানোর সময় এমন বিপদের কথা কেউই কল্পনা করতে পারে না। কিন্তু এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণিত হলো, মানব-প্রকৃতি দ্বন্দ্ব কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
প্রিয়ার শোকস্তব্ধ পরিবার ও গ্রামের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, প্রশাসনকে আরও দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় মানুষ। বাঁদরদের আক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বিয়ের মরসুমে সোনা ৮১ হাজার পেরোল! গয়না না কিনে কীভাবে বিনিয়োগে লাভ বাড়ানো যায়?

