বসিরহাট বিধায়কের বিরুদ্ধে বিতর্কিত
বসিরহাট উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুল ইসলামের বাসার কাছেই দেখা গেল ‘সন্ধান চাই’ শিরোনামের পোস্টার, যা এলাকায় বেশ বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই পোস্টারে উল্লেখ রয়েছে ‘তৃণমূল কংগ্রেস সম্মান রক্ষা কমিটি’, যদিও এই নামে দলের কোনও সাংগঠনিক শাখা নেই। পোস্টারের নিচে একটি ফোন নম্বরও দেওয়া আছে, যা কারও কাছেই অস্তিত্বহীন। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, কে বা কারা এই পোস্টার সাঁটাল? এটি কি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল, না কি বিরোধী দলের কাজ?
বিধায়কের বাসস্থান মুরারিশায় শনিবার সকালে বিভিন্ন স্থানে এই পোস্টার দেখা গেছে। বিশেষ করে মুরারিশা চৌমাথায় এবং বিধায়কের অফিস ও বাসার আশেপাশে। পোস্টারে লেখা রয়েছে, “এই ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম। পেশায় বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক। বিধানসভা ভোটের পর থেকে তাঁকে আর দেখা যাচ্ছে না।” এমনকি বিধায়কের পরিবারের কাছ থেকেও তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম পূর্বে সিপিএমের বিধায়ক ছিলেন এবং ২০১৬ সালে সিপিএমের টিকিটে নির্বাচিত হন। পরে ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই তাঁর উপস্থিতি এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেই বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, গত লোকসভা নির্বাচনে কিছু প্রচার কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা গেলেও, এর পর থেকে তিনি কার্যত আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এদিকে, বিধায়কের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘তৃণমূল কংগ্রেস সম্মান রক্ষা কমিটি’ নামে কোনও কমিটি তাঁর জানা নেই। তিনি আরও বলেন, “এটি একটি ষড়যন্ত্র। এই ভুইফোঁড়েরা কে, তা জানি না। তবে এলাকার মানুষ জানেন আমি কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করি।” তাঁর দাবি, দলের সদস্যরা তাঁকে দু’বার নির্বাচিত করেছেন এবং এলাকার জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
হাসনাবাদ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি এস্কেন্দার গাজির মতে, এই পোস্টার সিপিএমের কাজ। তিনি বলেন, “রফিকুল ইসলাম আগে সিপিএমের সদস্য ছিলেন, তাই সিপিএমের পক্ষ থেকে এই পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।” পোস্টারদাতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, এটি বিরোধীদের চক্রান্ত।
বিধায়ক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি, তবে তাঁর উপস্থিতির অভাব বিষয়ে ব্লক সভাপতিও স্বীকার করেছেন। গত ৩০ অক্টোবর তাঁর নিজ এলাকায় বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে বিধায়কের উপস্থিতি ছিল না বলে জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে রফিকুল বলেছেন, “আমি ব্লক সভাপতির সঙ্গে তিন দিন আগে বৈঠক করেছি। আমি দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম।”
বসিরহাটের সিপিএম নেতা সুবিদ আলি গাজি এই ঘটনাকে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেন, “এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ। রফিকুলকে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হতে না দেওয়ার জন্যই এ ধরনের অপপ্রচার। সিপিএম সরাসরি রাজনৈতিক মোকাবিলা করে এবং এই ধরনের রাজনীতি করে না।”
এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে বোঝা যাচ্ছে, বসিরহাট উত্তরের রাজনীতিতে একটি অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতির এই উত্তেজনা এবং পোস্টারের পিছনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা জরুরি। সুতরাং, রফিকুল ইসলামের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংহতি রক্ষার দিকে নজর রাখতে হবে। এটি কেবল রফিকুলের জন্য নয়, বরং তৃণমূলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। রাজনীতির এই পট পরিবর্তন বোঝাতে পারে, ভবিষ্যতে কীভাবে দলের নীতি এবং তাদের কার্যক্রমের উপর প্রভাব ফেলবে।

