Monday, April 7, 2025

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের তাণ্ডব! সুনামির আশঙ্কা

Share

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের !

প্রশান্ত মহাসাগরের শান্ত নীল জলে এবার ভয়ংকর কম্পন! রবিবার সন্ধ্যায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.১, যা যথেষ্ট ভয়ংকর। ভূমিকম্পের পরপরই সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিউয়ে এবং টোঙ্গার উপকূলে এক মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও প্রভাব

আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল পাঙ্গাই গ্রামের প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে, সমুদ্রতলের ১০ কিলোমিটার গভীরে। গভীর সমুদ্রে উৎপন্ন এই কম্পনের জেরে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বড় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের কারণে এখনো পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও, স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

টোঙ্গার মতো দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, এগুলো প্রায়ই ভূমিকম্পের কবলে পড়ে। এই দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অফ ফায়ার’-এর মধ্যে অবস্থিত, যেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

সুনামির সম্ভাবনা ও সতর্কতা

ভূমিকম্পের পরপরই সতর্কতা জারি করা হয়েছে, বিশেষ করে নিউয়ে এবং টোঙ্গার উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এতে বিপজ্জনক উচ্চতার ঢেউ তৈরি হতে পারে, যা উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে প্লাবন ঘটাতে পারে।

ক্রমাগত ভূমিকম্পের আতঙ্ক

সম্প্রতি প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে একের পর এক ভূমিকম্প হচ্ছে, যা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে একদিনেই ১৫ বার কেঁপেছে মায়ানমারের মাটি, যার মধ্যে একটি ছিল ৭.৭ মাত্রার। এতে প্রায় ১৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও সাড়ে তিন হাজার। এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ডেও, যেখানে রাজধানী ব্যাংককের একটি নির্মীয়মাণ ৩০ তলা ভবন ধসে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত সেখানেও বহু মানুষ নিখোঁজ।

সরকারি প্রস্তুতি ও উদ্ধার কাজ

টোঙ্গা প্রশাসন ইতিমধ্যেই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উদ্ধারকারী দলগুলো সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের জন্য কাজ শুরু করেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

ভবিষ্যতের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভূমিকম্পের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং আফটারশকের সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে টোঙ্গা এমনই এক ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির সাক্ষী ছিল, যার ফলে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে।

সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী কম্পনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে টোঙ্গার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

বিজেপি-এডিএমকে জোট নিয়ে নতুন জল্পনা: শর্তই কি আলোচনার মূল বিষয়?

Read more

Local News