পাকিস্তানে প্রদেশগুলির ক্ষমতা কমাতে উদ্যোগী শাহবাজ় শরিফ ?
পাকিস্তানে ফের রাজনৈতিক ঝড়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সরকার সংবিধানের ২৭তম সংশোধন আনতে চাইছে বলে ঘোষণা করার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা—এতে কি প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা কমে যাবে?
🇵🇰 সংবিধান সংশোধনের পথে শরিফ সরকার
মঙ্গলবার পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার সেনেটে দাঁড়িয়ে জানান, “সরকার শীঘ্রই সংবিধানের ২৭তম সংশোধন আনছে। আইন ও সংবিধানের সকল নিয়ম মেনেই প্রস্তাব টেবিলে আনা হবে।”
তবে বিরোধীরা—বিশেষ করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)—সরকারের বিরুদ্ধে বেআইনি প্রক্রিয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
⚖️ কী কী বদল আসতে পারে এই সংশোধনে?
সংবাদ সংস্থা PTI সূত্রে জানা গেছে, সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষা ও জনসংখ্যাকল্যাণ মন্ত্রক প্রাদেশিক সরকারের হাত থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে চলে যেতে পারে। এছাড়া নতুন একটি সাংবিধানিক আদালত গঠন, নির্বাচনী কমিশনারের নিয়োগ পদ্ধতি পরিবর্তন, এমনকি সংবিধানের ২৪৩ নম্বর ধারায় সশস্ত্র বাহিনী বিষয়েও সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।
| সম্ভাব্য পরিবর্তন | সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র |
|---|---|
| শিক্ষা মন্ত্রক | প্রাদেশিক থেকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে |
| জনসংখ্যাকল্যাণ মন্ত্রক | ফেডারেল সরকারের হাতে |
| নতুন আদালত | সাংবিধানিক আদালত প্রস্তাব |
| নির্বাচন কমিশন | নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিবর্তন |
| ধারা ২৪৩ | সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামো সংশোধন |
🏛️ রাজনৈতিক সমীকরণ কী বলছে
পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দু’টি কক্ষ—সেনেট (৯৬ সদস্য) ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (৩৩৬ সদস্য)। সংবিধান সংশোধনের জন্য দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ়) তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী—২৩৩ সদস্যের সমর্থন রয়েছে, যা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। কিন্তু সেনেটে কিছুটা বাধা আসতে পারে। সেখানে ৬৪ ভোটের প্রয়োজন হলেও শরিফের হাতে রয়েছে ৬১টি ভোট। অর্থাৎ তিনজন বিরোধী সদস্যের সমর্থন ছাড়া সংবিধান সংশোধন কার্যকর করা সম্ভব নয়।
🔍 বিরোধীদের আশঙ্কা
বিরোধীরা বলছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রাদেশিক অধিকারের হ্রাস ঘটবে, যা পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের পক্ষে বিপজ্জনক। অন্যদিকে, শরিফ সরকার দাবি করেছে, এটি কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়াস।
👉 ভারতের সঙ্গে তুলনা করতে চাইলে পড়ে নিতে পারেন ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাজ্য ক্ষমতা সম্পর্কিত বিশ্লেষণ — যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
🌐 উপসংহার
পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধনের এই বিতর্ক শুধু রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশটির ভবিষ্যৎ ফেডারেল কাঠামো ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দিকেও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, শাহবাজ় শরিফ সরকার এই কঠিন সমীকরণে শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়।
আরও পড়ুন:

