Monday, December 8, 2025

নিট পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল: উত্তরপ্রদেশে নামী কোচিং সেন্টারের দুই শিক্ষক গ্রেফতার

Share

নিট পড়ুয়াকে ধর্ষণ

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে একটি নামী কোচিং সেন্টারের দুই শিক্ষককে নিট পরীক্ষার এক পড়ুয়াকে ধর্ষণ এবং মাসের পর মাস ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের শুরুতে ওই নিট পড়ুয়া কানপুরের একটি বিখ্যাত কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে একে অপরের যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর, যেখানে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সিসিটিভি ফুটেজে অশ্লীল আচরণ ধরা পড়ে। সেসময় ওই নিট পড়ুয়া পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন, এবং তার ভিত্তিতে প্রথমে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তদন্তে আরেক শিক্ষকও ধরা পড়েন।

নির্যাতিতার অভিযোগ, জীববিদ্যা শিক্ষক প্রথমে তাকে তার ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান এবং বলেন, সেখানে আরও অনেক ছাত্র থাকবেন এবং সবাই মিলে পার্টি করবেন। কিন্তু, সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি দেখেন, অন্য কোনো ছাত্র নেই। এরপরই তাকে অচেতন করে মাদক খাওয়ানো হয় এবং ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও করা হয় এবং পরে সেই ভিডিও দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেল করা হয়, ফলে বেশ কিছুদিন ধরে তাকে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়।

তবে, অভিযোগ এখানেই শেষ হয়নি। নির্যাতিতার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে তাকে পার্টিতে ডাকতেন এবং সেখানে জোর করে তাকে নিয়ে আসতেন। একবার ওই পার্টিতে কোচিং সেন্টারের রসায়ন বিভাগের আরেক শিক্ষকও তাকে ধর্ষণ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে, আসল ঘটনায় তোলপাড় তৈরি হওয়া পরই অপর এক ছাত্রীর অভিযোগের ফলে বিষয়টি সামনে আসে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা যায় যে, ওই শিক্ষকরা দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের অপরাধ করে আসছিলেন। একের পর এক অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে। কানপুরের অ্যাসিসট্যান্ট পুলিশ কমিশনার অভিষেক পাণ্ডে জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনা কেবলমাত্র ব্যক্তিগত দুর্বৃত্ততা নয়, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন অপরাধের ভয়ঙ্কর প্রতিচ্ছবি। যেখানে শিক্ষকরা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদার ওপর আঘাত হেনেছে। এর ফলে শুধুমাত্র নির্যাতিত ছাত্রীর জীবন নয়, গোটা শিক্ষা পরিবেশও বিপন্ন হয়েছে। এমনকি, শিক্ষকের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে গেছে।

কোচিং সেন্টারের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়াও স্বাভাবিক। তাদের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, এসব অপরাধে সংযুক্ত থাকা শিক্ষকরা কি আদৌ শিক্ষার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেছিলেন, নাকি তারা নিজেদের স্বার্থে ছাত্রদের ব্যবহার করেছিলেন। এই ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আরো কঠোর নজরদারি চালানো, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ছাত্র এই ধরনের শিকার না হন।

প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেলিং এবং শারীরিক নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। কানপুরের পুলিশ বিষয়টির গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দ্রুত গতিতে মামলা পরিচালনা করছে, যাতে অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং সমাজে এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি হয়।

এছাড়া, এই ঘটনার পর অনেক অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা অভিযোগ করছেন যে, অনেক কোচিং সেন্টার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, যেখানে শিক্ষকদের ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকে। সামাজিকভাবে এর বিরোধিতা করা জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এছাড়া, পুরো ঘটনার তদন্তের পর যদি কোনো নতুন তথ্য সামনে আসে, তবে পুলিশ আরও পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে আপাতত দুই অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার হওয়ায় কিছুটা হলেও ন্যায় প্রতিষ্ঠা হতে পারে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো সমাজের জন্য একটি বড় বার্তা রয়েছে, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং সম্মান সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

Read more

Local News