নিউ টাউনে মশা নিয়ন্ত্রণে ড্রোনের ব্যবহার
নিউ টাউনে ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়ার মোকাবিলায় এবার মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। বিশেষ করে, এমন সব জায়গায় যেখানে মানুষের পক্ষে প্রবেশ করা সম্ভব নয় বা যেখানে মশা মারার তেল ছড়ানো কঠিন, সেখানে ড্রোনের মাধ্যমে মশার লার্ভা মারার তেল স্প্রে করা হচ্ছে। ‘নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (এনকেডিএ)-র পক্ষ থেকে এই নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়েছে, এবং এটি ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এনকেডিএ কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের ডেঙ্গির মরসুমের শুরু থেকে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, এবং এটি ইতিমধ্যে বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। গত বছরের তুলনায়, ২০২৪ সালে নিউ টাউনে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। যেখানে গত বছর এই সময় পর্যন্ত ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৬৯, সেখানে এই বছর এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৩৩। এর পিছনে ড্রোনের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
নিউ টাউনের গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রোপথের নির্মাণস্থলের উপরের অংশে বিশেষত জমা জলে মশা জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। এমন জায়গায় মশা মারার জন্য সাধারণত পায়ে হেঁটে বা মেশিন দিয়ে তেল ছড়ানো কঠিন। তবে ড্রোনের মাধ্যমে এই কাজটি সহজেই করা সম্ভব হচ্ছে। নিউ টাউনে এমন কিছু স্থানও রয়েছে, যেখানে ঘন জঙ্গল এবং সাপের উপদ্রব থাকার কারণে মশার তেল ছড়ানোর কাজও চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। সেসব এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে মশার তেল ছড়িয়ে সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে।
এক শীর্ষ এনকেডিএ আধিকারিকের মতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোনের মাধ্যমে মশা মারার তেল দেওয়া হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় সফলতার পর, একাধিক এলাকায় এই পদ্ধতি চালু করা হয়। মেট্রোর নির্মাণপথে জমা জলে জন্মানো মশা মারার কোন উপায় ছিল না, কিন্তু ড্রোনের সাহায্যে সেখানে মশার তেল ছড়িয়ে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া, কলকাতা পুরসভাও এক বছর আগে যাদবপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত কারখানায় ড্রোনের মাধ্যমে মশার লার্ভা মারার তেল প্রয়োগ করেছিল। নিউ টাউনের পাশের বিধাননগর এলাকায়ও ড্রোনের মাধ্যমে মশার লার্ভা খোঁজা হচ্ছে, তবে সেখানে তেল ছড়ানোর ব্যবস্থা এখনও শুরু হয়নি।
এনকেডিএ জানিয়েছে, তারা মশার জন্মস্থানগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিউ টাউনের খালগুলো ঢেকে সেগুলির উপরে পার্ক তৈরি করা হচ্ছে, এবং এই কাজের কিছু অংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে, সাফাইয়ের কাজে কর্মী সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এমনকি, গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন এলাকাগুলিতেও কিছু কিছু জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে নিয়মিত সাফাইয়ের কাজ চলছে।
এছাড়া, নির্মাণাধীন এলাকা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে, কারণ সেখানে শ্রমিকরা নির্মাণকাজের জন্য জল জমিয়ে রাখেন, যা মশা জন্মানোর সম্ভাবনা বাড়ায়। এনকেডিএ জানাচ্ছে, ডেঙ্গি মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে, এবং যারা নিষেধাজ্ঞা মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ড্রোনের মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণের এই নতুন পদ্ধতি শহরের মশা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র কার্যকরী একটি পদ্ধতি নয়, বরং মশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

