পর্যটকশূন্য পুরী
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র আবির্ভাব হয়েছে। বুধবার ‘দানা’র আনুষ্ঠানিক জন্ম হলেও এর তীব্র প্রভাব বৃহস্পতিবার ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। এর আগেই দুই রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক সতর্কতা ও প্রস্তুতি। বিশেষ করে, ওড়িশায় ২০০-রও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, পুরী শহর পর্যটকশূন্য করা হয়েছে, এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৮৮টি প্রশিক্ষিত দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও গতিবেগ:
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ ওড়িশা ও বাংলার উপকূলের উপর দিয়ে যখন স্থলভাগে প্রবেশ করবে, তখন এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। ঝড়ের সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়বে ওড়িশার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। জগৎসিংহপুর, কেন্দাপাড়া, ভদ্রক এবং বালেশ্বরে ঝড়ের গতি ১১০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অপেক্ষাকৃত কম প্রভাব পড়বে ময়ূরভঞ্জ, পুরী, ভুবনেশ্বর, কটক, এবং সম্বলপুরে। ‘দানা’র আগমনকে কেন্দ্র করে আগাম সতর্কতা হিসাবে বুধবার থেকেই বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে।

ওড়িশার প্রস্তুতি:
ওড়িশার প্রশাসন ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পুরী শহর থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এবং শহরটিকে কার্যত পর্যটকশূন্য করে রাখা হয়েছে। ঝড়ের সময় ও পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৮৮টি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন জেলায় মোতায়েন রয়েছে। জগৎসিংহপুর, কেন্দাপাড়া, ময়ূরভঞ্জ, কটক, ভদ্রক এবং বালাসোরে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড় মোকাবিলায় ছয়টি জেলায় ছয়জন অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে, যারা পরিস্থিতি তদারকি করবেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও জনসংখ্যা সরানো:
ওড়িশার উপকূলবর্তী ১৪টি জেলায় তিন দিনের জন্য স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রাজ্যে ২০০-রও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, যাতে ঝড়ের কারণে কোনও যাত্রী দুর্ভোগে না পড়েন। ঝড়ের আশঙ্কায় ৮০০টি দুর্যোগ আশ্রয়শিবির তৈরি করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও ৫০০টি অতিরিক্ত আশ্রয়শিবির চালু করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে স্থানীয় জনগণকে আশ্রয়শিবিরে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তুতি:
ওড়িশার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ঝড়ের মোকাবিলায় প্রশাসন তৎপর। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা, সাগরদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, বকখালি সহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে কন্ট্রোল রুমও।
শেষ মুহূর্তের সতর্কতা:
মৌসম ভবন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ আরও শক্তিশালী হয়ে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের কাছাকাছি এসে আছড়ে পড়বে। এই সময়ে ঝড়ের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

