বিক্রম মিস্রী
ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ঢাকায় পৌঁছালেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় তাঁর বিমান অবতরণ করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের বিদেশ দপ্তরের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) ইশরাত জাহান।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মিস্রীর এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সূচি
বাংলাদেশে মিস্রীর সফরের সূচি অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকার পদ্মা ভবনে বাংলাদেশের বিদেশ সচিব মোহাম্মদ জসীমউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন মিস্রী। এরপর বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথম কূটনৈতিক বৈঠক
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক হতে চলেছে। এই বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই দেশের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি এখন পরিবর্তনের পথে।
তৌহিদ হোসেন রবিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন করে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। আমাদের সেই পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) এখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। হাসিনার ভারতে সাময়িক আশ্রয় নেওয়া নিয়ে বিএনপি ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। রবিবার ভারতীয় দূতাবাসে তারা একটি স্মারকলিপি জমা দেয়, যেখানে এ বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। ইসকনকে নিষিদ্ধ করার জন্য ইউনূস সরকারের আদালতে মামলা করার ঘটনা এবং এক সন্ন্যাসীকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতারের মতো ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক কি সহজ হবে?
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সম্পর্ককে জটিল করেছে।
ভারতের বিদেশ সচিবের এই সফর কি সেই জটিলতার অবসান ঘটাতে পারবে? এই সফর কি নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর সময়ই দেবে। তবে দুই দেশের জনগণই আশা করছেন, এই সফর কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

