Monday, December 8, 2025

ডার্ক চকোলেট: টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

Share

ডার্ক চকোলেট

চকোলেটের প্রতি ভালবাসা প্রায় সবার মধ্যেই কমবেশি থাকে। কিন্তু টাইপ ২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হলে প্রথমেই বিদায় জানাতে হয় মিষ্টি আর চকোলেটকে। তবে হার্ভার্ডের সাম্প্রতিক গবেষণায় জানানো হয়েছে, চকোলেটও হতে পারে ডায়াবিটিস প্রতিরোধের হাতিয়ার। তবে যে কোনও চকোলেট নয়, ডার্ক চকোলেট।

হার্ভার্ডের গবেষণার দাবী


‘দ্য বিএমজে’ বিজ্ঞানপত্রিকায় প্রকাশিত এই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সপ্তাহে অন্তত পাঁচটি ডার্ক চকোলেট খেলে টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি ২১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের নিউট্রিশন ও এপিডেমিওলজি বিভাগের গবেষকেরা ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সি বেশ কিছু মানুষের উপর এই সমীক্ষা চালান। দেখা গেছে, ডার্ক চকোলেট খাওয়ার ফলে তাঁদের মধ্যে ডায়াবিটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ডার্ক চকোলেটে পলিফেনল নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, দুধের চকোলেট অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে, যা ডায়াবিটিসের অন্যতম কারণ।

চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ


ডার্ক চকোলেটের এই সুবিধার প্রসঙ্গে চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার বলেন, “হার্ভার্ডের এই গবেষণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি সবে শুরু হয়েছে। আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন। প্রিডায়াবেটিক রোগীরা ডার্ক চকোলেট খেতে পারেন, তবে পরিমাণ অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। আর তা অবশ্যই ‘সুগার ফ্রি’ ডার্ক চকোলেট হওয়া উচিত।”

চিকিৎসকের আরও পরামর্শ, ডায়াবিটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শুধু চকোলেটের উপর নির্ভর করলে হবে না। নিয়মিত ওষুধ সেবন, শরীরচর্চা, এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি বা জগিং অত্যন্ত প্রয়োজন। দু’টি মিলের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান রাখা চলবে না।

টাইপ ২ ডায়াবিটিস ও এর প্রভাব


বর্তমানে ডায়াবিটিস একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। টাইপ ২ ডায়াবিটিসে আক্রান্তদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, এমনকি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। তাই টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমাতে পুষ্টিকর খাবার এবং শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডার্ক চকোলেট নিয়ে আশার আলো


হার্ভার্ডের গবেষণা ডার্ক চকোলেটকে একটি কার্যকরী প্রতিরোধক হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এটি কোনও ম্যাজিক ওষুধ নয়। বরং এটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশ হতে পারে। প্রিডায়াবেটিক অবস্থায় কেউ যদি সুগার ফ্রি ডার্ক চকোলেট সীমিত পরিমাণে খান, তবে এটি উপকারী হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা


এটি মাথায় রাখা জরুরি যে, এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। বড় পরিসরে গবেষণা ছাড়া ডার্ক চকোলেটের উপকারীতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অতিরিক্ত চকোলেট খাওয়া ওজন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সুষম ডায়েট ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি ডার্ক চকোলেটের সুবিধা নেওয়া যেতে পারে। তবে সব কিছুই যেন হয় সংযমের সঙ্গে।

শেষ কথা


ডার্ক চকোলেট নিয়ে হার্ভার্ডের গবেষণা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ এবং সঠিক পদ্ধতি মেনে চললে তবেই ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই ডায়াবিটিস রোগীরা সুস্থ জীবনযাপনের দিকে আরও মনোযোগ দিন এবং সঠিক খাবার নির্বাচন করুন।

Read more

Local News