ছোট পর্দায় দুই প্রজন্মের রাসমণি
বাংলার টেলিভিশন জগতে রানি রাসমণি চরিত্রে অভিনয়ের এক অনন্য পরিচিতি গড়ে তুলেছেন দুই প্রজন্মের অভিনেত্রী – অনুরাধা রায় ও দিতিপ্রিয়া রায়। ২০ বছরের ব্যবধানে তাঁরা এক ঐতিহাসিক চরিত্রকে তুলে ধরেছেন দর্শকদের সামনে। কালীপূজার প্রাক্কালে আনন্দবাজার অনলাইনের আমন্ত্রণে এই দুই অভিনেত্রী তাদের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করলেন।
ঐতিহাসিক চরিত্রের প্রতি অনুরাধার টান
১৯৯৭ সালে দূরদর্শনে প্রচারিত ‘রাজেশ্বরী’ ধারাবাহিকে রানি রাসমণির চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন অনুরাধা রায়। দেবাংশু সেনগুপ্ত পরিচালিত এই ধারাবাহিকটি বাংলা দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সময়ে সদ্য স্বামীহারা অনুরাধা মানসিকভাবে খুবই কঠিন সময় পার করছিলেন, কিন্তু ঐতিহাসিক চরিত্রের প্রতি তাঁর আগ্রহে তিনি রাসমণির চরিত্রে অভিনয় করতে সম্মত হন।
ধারাবাহিকের প্রথম থেকেই তিনি রাসমণি চরিত্রে গভীরভাবে ঢুকে পড়েন। অভিনয়ের প্রস্তুতি হিসেবে নিজে থেকে রাসমণি সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন এবং শুটিংয়ের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করেন। এই ধারাবাহিকের সহ-অভিনেতা সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও মৃণাল মুখোপাধ্যায় তাঁর কাজকে আরও সহজ করে তোলেন। অভিনেত্রীর কথায়, ‘‘ধারাবাহিক শেষ হলেও চরিত্রটি আমার জীবনে থেকে গেছে। আজও রাসমণি চরিত্রের জন্য মানুষের কাছ থেকে এত ভালোবাসা পাই যে মন ভরে যায়।’’
দিতিপ্রিয়ার অভিনয়ে রাসমণির পুনর্জন্ম
দিতিপ্রিয়া রায় ২০১৬ সালে জি বাংলার ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ ধারাবাহিকে রানি রাসমণি চরিত্রে অভিনয় করেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। শুরুতে ধারাবাহিকে রাসমণির শৈশবের চরিত্রে অভিনয় করলেও, ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তার কারণে নির্মাতারা তাঁকে পূর্ণাঙ্গ চরিত্রে রেখে গল্প এগিয়ে নিয়ে যান। পাঁচ বছরের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দিতিপ্রিয়া চরিত্রটি নিয়ে গবেষণা করেন এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।
দিতিপ্রিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘‘ধারাবাহিকে সকলের মধ্যে আমিই সবচেয়ে ছোট, অথচ পর্দায় আমার বয়স বেশি দেখানোর চেষ্টা করতে হত। এটি ছিল খুব ইন্টারেস্টিং অভিজ্ঞতা।’’ এই অভিনয়ের জন্য তাকে সমালোচনাও শুনতে হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা নিয়ে চিন্তা না করে নিজের অভিনয়ে মনোযোগ দিয়েছেন।
দুই প্রজন্মের রাসমণির অভিজ্ঞতা
অনুরাধা ও দিতিপ্রিয়া ভিন্ন প্রজন্মের হলেও তাঁরা দু’জনই রানি রাসমণির চরিত্রে নিজস্বতা নিয়ে অভিনয় করেছেন। অনুরাধা যখন রাসমণির চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন, তখন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর পরিচিতি তৈরির জন্য এটি ছিল মাইলফলক। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘‘ধারাবাহিকের শেষে, আমার চরিত্রটাকে এত ভালোবাসা দিয়েছিল যে তা আমার জীবনেরই একটি অংশ হয়ে যায়।’’
দিতিপ্রিয়া বলেন, ‘‘অনেকে রাসমণি হিসেবে আমাকে দেখে প্রণাম করতেন, যা এক বিরল অভিজ্ঞতা। এমনকি মেকআপ ছাড়া আমাকে দেখে দর্শকরা অবাক হতেন।’’ তাঁর এ অভিনয়ের জন্য আজও মানুষ তাকে রাসমণি চরিত্রের জন্য স্মরণ করেন, যা তাঁর জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।
কালের স্রোতে ভাসমান স্মৃতি
অনুরাধা ও দিতিপ্রিয়ার এই চরিত্রায়ণ দুই ভিন্ন সময়ে হলেও বাংলা ছোট পর্দায় রানি রাসমণির চরিত্রটি তাঁরা উজ্জ্বলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের কাজ বাংলা ধারাবাহিকে রানি রাসমণির স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।

