Monday, December 8, 2025

চার হাজার কোটি টাকার সোনা: নাসরাল্লার গোপন বাঙ্কারে হিজ়বুল্লার ‘যকের ধন’

Share

চার হাজার কোটি টাকার সোনা

ইজ়রায়েলের দাবি অনুযায়ী, হিজ়বুল্লার প্রাক্তন প্রধান সৈয়দ হাসান নাসরাল্লার গোপন বাঙ্কার থেকে তারা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করেছে। এই তথ্য সামনে আসার পর বিশ্বব্যাপী আলোচনা শুরু হয়েছে। ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী সম্প্রতি জানিয়েছে, বেরুটের একটি হাসপাতালে নাসরাল্লার গোপন বাঙ্কারটি লুকিয়ে রাখা ছিল, যেখানে ৫০ কোটি ডলারের সমমূল্যের সোনা এবং নগদ অর্থ ছিল।

গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ইজ়রায়েলের হাতে নাসরাল্লা নিহত হন। এরপর থেকে হিজ়বুল্লা সংগঠনের কর্মকাণ্ড এবং তাদের গোপন সম্পদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়। ইজ়রায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি এই বাঙ্কারের একটি গ্রাফিক ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তারা উল্লেখ করেছেন যে এই বাঙ্কারটি হাসপাতালের নীচে অবস্থিত।

সোনা

হাগারি জানান, “এই বাঙ্কারটি ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালের নীচে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে ৫০ কোটি ডলারের বেশি নগদ এবং সোনা রয়েছে।” এই অর্থ নাকি লেবাননের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার হওয়ার বদলে হিজ়বুল্লার উন্নয়নের কাজে লাগছিল।

এদিকে, তিনি লেবাননের সরকারকে অনুরোধ করেছেন যে, হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং হাসপাতালের নীচে থাকা গোপন বাঙ্কারটি পরিদর্শন করা দরকার। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদে মদত জোগানোর জন্য এবং ইজ়রায়েলে আক্রমণ করার জন্য হিজ়বুল্লাকে ওই অর্থ ব্যবহার করতে দেবেন না।”

এছাড়া, বাঙ্কারটি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এটি আরও দু’টি ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত, যা প্রবেশ এবং বাহিরের পথ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এই বাঙ্কারে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলের অভিযোগ, তারা হাসপাতাল, স্কুল এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানগুলি ব্যবহার করে অস্ত্র লুকিয়ে রাখছে। এই সংগঠনটি ইরানের মাধ্যমে অর্থ এবং সোনার পাচার করে নিজেদের কার্যক্রমে মদত জোগাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ড্যানিয়েল।

তিনি আরো জানান, “হিজ়বুল্লার আয়ের প্রধান উৎস দু’টি— লেবাননের জনগণ এবং ইরানের সরকার।” তিনি দাবি করেছেন যে, এই সংগঠন সিরিয়ার মাধ্যমে নগদ এবং ইরানের মাধ্যমে সোনা পাচার করে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ড্যানিয়েল বলেন, “আমাদের লড়াই লেবাননের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইরানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।” তিনি মনে করেন যে, হিজ়বুল্লা সাধারণ লেবাননের জনগণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

সম্প্রতি, ইজ়রায়েলের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, নাসরাল্লার মৃত্যুর পর সংগঠনের নেতৃত্ব নিতে পারেন হাশেম সফিদ্দিন, যিনি পরে ইজ়রায়েলের হামলায় নিহত হন। এই ঘটনার পর হিজ়বুল্লার কার্যক্রমের দিকে নজর রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এভাবে, ইজ়রায়েলি সেনাবাহিনী হিজ়বুল্লার গোপন সম্পত্তি এবং তাদের সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

Read more

Local News