চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোয় বদলে গেল পুরনো দস্তুর!
চন্দননগর, আলোর শহর—যেখানে জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই আলো, ভাসান আর ভক্তির উচ্ছ্বাস। কিন্তু এত দিন ভাসানের দিন মানেই অন্ধকার, কারণ প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোটা শহরেই বন্ধ থাকত বিদ্যুৎ। এবার সেই পুরনো প্রথার পরিবর্তন ঘটল। এ বছর প্রথমবারের মতো জগদ্ধাত্রী পুজোর শোভাযাত্রা ও বিসর্জন হবে বিদ্যুৎ সচল রেখেই।
🌟 পরিবর্তনের সূচনা
চন্দননগরের বিদ্যুৎ দফতর জানিয়েছে, মাটির নিচ দিয়ে নতুন করে ১১ কেভি পাওয়ার লাইনের সংযোগ বসানো হয়েছে। প্রায় ₹১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আধুনিক ব্যবস্থা এখন ভাসানের সময়েও বিদ্যুৎ সচল রাখতে সক্ষম।
| বিষয় | আগে যা হত | এখন যা হচ্ছে |
|---|---|---|
| বিদ্যুৎসংযোগ | সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ | সারাদিন বিদ্যুৎ সচল |
| জলের সরবরাহ | অনিয়মিত, ট্যাঙ্কার নির্ভর | স্বাভাবিক ও অবিরাম |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | সীমিত পুলিশি নজরদারি | ড্রোন, CCTV ও মহিলাদের নিরাপত্তা টিম |
| শোভাযাত্রা | রাতে আলো ঝলমলে, দিনে অন্ধকার | দিন-রাতেই আলো |
🏮 আলোয় ভাসছে শহর
চন্দননগরের শিক্ষাকর্মী অভিষেক ঘোষ বলেন,
“এত বছর ভাসানের দিন লোডশেডিংয়ে ভুগতে হত। এবার সারাদিন বিদ্যুৎ থাকায় সত্যিই স্বস্তি।”
পুরসভার মেয়র রাম চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এবার কোনও বাড়ি বা আবাসনে লোডশেডিং হবে না। শহরের ৭০টি পুজো কমিটি এবং ২৪৫টি ট্রাক নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়েছে।
🕉️ নিরাপত্তায় কড়া নজর
চন্দননগর কমিশনারেট জানিয়েছে, প্রায় ৩,০০০ পুলিশ সদস্য নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি শোভাযাত্রার সঙ্গে থাকবে পুলিশ টিম, এবং পুরো এলাকাকে নজরদারিতে রাখবে CCTV ও ড্রোন ক্যামেরা। এছাড়া, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে অনলাইনে শোভাযাত্রার সরাসরি সম্প্রচারও করা হবে।
🌊 বিসর্জনের সময়সূচি
শনিবার সন্ধ্যা থেকে শোভাযাত্রা শুরু হবে এবং রবিবার সকাল থেকে গঙ্গার ১৪টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হবে। সবচেয়ে বেশি ভিড় প্রত্যাশিত রানিঘাটে, যেখানে নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে।
🔗 প্রাসঙ্গিক তথ্য ও সংযোগ
- জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন West Bengal Tourism-এর সরকারি ওয়েবসাইটে।
- এ বছরের অন্যান্য দুর্গা ও জগদ্ধাত্রী পুজোর খবর পেতে পড়ুন Bangla TechnoSports-এর পুজো স্পেশাল বিভাগে।
- চন্দননগরের আলোকসজ্জা ও উৎসব পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত থাকুন TechnoSports-এর সাংস্কৃতিক রিপোর্টে।
উপসংহার:
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর নবযুগের প্রতীকও বটে। যেখানে একদিকে ঐতিহ্যের শিকড়, অন্যদিকে আধুনিক উন্নয়নের আলোর দ্যুতি। এই বছর সত্যিই বলা যায়—চন্দননগর এখন “আলোর শহর” নামের মর্যাদা রাখল পরিপূর্ণভাবে! ✨

