Monday, December 1, 2025

গোর্খা ইস্যুতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বিস্মিত মমতা, চিঠি লিখলেন মোদীকে — উত্তরবঙ্গের জন্য অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস নিয়োগে চাঞ্চল্য

Share

গোর্খা ইস্যুতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বিস্মিত মমতা!

উত্তরবঙ্গের রাজনীতি ফের সরগরম। দার্জিলিং, তরাই এবং ডুয়ার্সের গোর্খা সম্প্রদায়ের বিষয়গুলি দেখভালের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস পঙ্কজ কুমার সিংহ-কে নিয়োগ করেছে। কিন্তু এই নিয়োগে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


📜 মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের কারণ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের পদক্ষেপ রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই নেওয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। তাঁর চিঠিতে লেখা —

“এ হেন নিয়োগ দেখে আমি বিস্মিত ও স্তম্ভিত। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত সহযোগিতামূলক শাসনব্যবস্থার পরিপন্থী।”

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে ২০১১ সালে রাজ্য, কেন্দ্র এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ভিত্তিতে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA) গঠিত হয়।


📊 বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
নিয়োগপ্রাপ্তপঙ্কজ কুমার সিংহ (অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস)
দায়িত্বগোর্খা ইস্যুতে আলোচনার দায়িত্ব
কেন্দ্রের পদক্ষেপরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নিয়োগ
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়াবিস্মিত, সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি
প্রেক্ষাপটপ্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর পুনর্গঠনের সময় কেন্দ্রের পদক্ষেপে বিরক্তি

🧩 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

মমতার সাড়ে ১৪ বছরের শাসনে দার্জিলিং পাহাড় বারবার অশান্ত হয়েছে। নেতৃত্ব পাল্টেছে—কখনও বিমল গুরুং, কখনও বিনয় তামাং, বর্তমানে অনীত থাপা GTA-র নেতৃত্বে রয়েছেন। তবু প্রশাসনিক মহল বলছে, পাহাড় সবসময়েই “ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি”—কখন যে অশান্তি জেগে উঠবে, বলা যায় না।

সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে ধস ও বন্যার পর মুখ্যমন্ত্রী টানা আট দিন এলাকায় থেকে ত্রাণ ও পুনর্গঠন পর্যালোচনা করেন। এই সময়েই কেন্দ্রের এই নিয়োগে রাজ্য সরকারের সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে—বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


🌐 প্রাসঙ্গিক তথ্য ও সূত্র


🗣️ উপসংহার

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই নাজুক; সেখানে নতুন কোনো কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল, যাতে সংবিধানসম্মত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকে।

Read more

Local News