গাজায় হামাস
গাজায় হামাস প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে খতম করার পর এক ইহুদি সৈনিকের একাকী অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ পেয়েছে। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) এর “অপারেশন সিনওয়ার” চলাকালীন, সৈনিকটি সিনওয়ারের মৃতদেহের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। এই ঘটনার বর্ণনা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি।
অপারেশনের সময়, আইডিএফ হামাসের গোপন ডেরায় প্রবেশ করে সিনওয়ারকে নিকেশ করে। এই অভিযানের পর, সৈনিকটি মৃতদেহটি শনাক্ত করার জন্য কিছু সময় একা বসে থাকেন। তাঁর নাম ইতামার ইটাম, এবং বর্তমানে তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, সিনওয়ার ভাঙা একটি চেয়ারে পড়ে ছিলেন এবং তাঁকে “বেঁটে, কুৎসিত ও ভগ্নস্বাস্থ্যের” ব্যক্তি বলে বর্ণনা করেন।

সূত্র অনুযায়ী, সিনওয়ার রাফা শহরে নিজেকে “নিরাপদ” মনে করেছিলেন। কিন্তু আইডিএফের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হলে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিনওয়ারের মৃত্যু ঘটে। পোস্টে, ইটাম লেখেন, “আমি সিনওয়ারের মৃতদেহটি নিজের চোখে দেখেছি। এটি ছিল এক ভাঙাচোরা চেয়ার।”
সিনওয়ারের মৃত্যুর পেছনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইজরায়েলি ভূখণ্ডে হওয়া ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইজরায়েলি প্রাণ হারান, এবং আইডিএফের দাবি, এই ঘটনার পরিকল্পনায় সিনওয়ারের হাত ছিল।
ইটাম তাঁর পোস্টে সিনওয়ারের প্রতি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, “সিনওয়ারও একসময় শিশু ছিল, যার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সে খারাপ পথে পা বাড়িয়েছিল।” তিনি সিনওয়ারের মৃত্যুকে যুদ্ধের জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, “আজকের দুনিয়াটা কত সুন্দর।”
আইডিএফের মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি জানিয়েছেন, অভিযানের সময় আরও কিছু জঙ্গি নিহত হয়েছে। সিনওয়ারের মৃতদেহ শনাক্তকরণে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিনওয়ারের মৃত্যুর ফলে হামাসের নেতৃত্বে এক সংকট দেখা দিয়েছে, এবং ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী নতুন একজন রাজনৈতিক নেতার সন্ধানে রয়েছে, যিনি গাজার বাইরে থেকে সংগঠনটি পরিচালনা করতে পারবেন।

