Monday, December 8, 2025

কোটির টাকার সঙ্গে উদ্ধার কুমির! বিজেপি প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে আয়কর হানা

Share

কোটির টাকার সঙ্গে উদ্ধার কুমির

মধ্যপ্রদেশের এক বিজেপি প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে আয়কর দফতরের হানায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা, এবং বিদেশি গাড়ি উদ্ধারের পাশাপাশি তিনটি কুমির পাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আয়কর সূত্রে জানা গিয়েছে, হরবংশ সিংহ রাঠৌর এবং তাঁর ব্যবসায়িক সঙ্গী রাজেশ কেশরওয়ানির বিরুদ্ধে ১৫৫ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানটি হরবংশ রাঠৌর এবং তাঁর সঙ্গীর বিভিন্ন সম্পত্তি ঘিরে পরিচালিত হয়। আয়কর আধিকারিকরা তাঁদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন নগদ তিন কোটি টাকা, কোটি কোটি টাকার গয়না এবং অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ নথি। এ ছাড়া বিলাসবহুল বিদেশি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পুকুরে কুমিরের সন্ধান

তল্লাশি চলাকালীন সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে যখন আধিকারিকরা বিধায়কের বাড়ির পুকুরে তিনটি কুমির দেখতে পান। এই অস্বাভাবিক আবিষ্কারে স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা দল। কুমিরগুলি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বলে জানা যায়, তবে কেন এই কুমিরগুলি পোষা হয়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। বন দফতরকে এই বিষয়ে তদন্তে যোগ দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে।

কুমির

কুমির পোষার রহস্য

কুমিরগুলি পোষার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণত বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী, এমন প্রাণী পোষা অবৈধ। তবে বিধায়ক কেন এবং কীভাবে এই কুমিরগুলি সংগ্রহ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বন দফতর সূত্রে খবর, শখের বশে কুমির পোষা হলেও এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকতে পারে।

কুমির উদ্ধার নিয়ে আলোড়ন

এই ঘটনার পর থেকেই বিধায়ক রাঠৌরের বাড়ি এবং তার আশপাশের এলাকা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। পুকুর থেকে কুমির উদ্ধারের ঘটনায় শুধু আয়কর দফতর নয়, বন দফতরও আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে।

কেন আয়কর দফতরের অভিযান?

প্রাক্তন বিধায়ক হরবংশ রাঠৌর বিড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সঙ্গী রাজেশ কেশরওয়ানির সঙ্গে মিলে ১৫৫ কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাঁদের বাড়িতে আয়কর দফতরের অভিযান শুরু হয়।

বিধায়কের অতীত ভূমিকা

হরবংশ রাঠৌর সাগরের বিজেপি বিধায়ক ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয়তা কমে যায়, তবে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর এই সম্পদ অর্জন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

উদ্ধারকৃত সম্পত্তির পরিমাণ

তল্লাশির সময় পাওয়া নগদ টাকার পাশাপাশি উদ্ধার হয় বিলাসবহুল গাড়ি, সোনা, গয়না এবং নানান সম্পত্তির গুরুত্বপূর্ণ নথি। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ কর ফাঁকির অভিযোগকেই আরও জোরালো করেছে।

আইন ও বিচার

বিধায়কের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের জন্য পৃথক দুটি মামলা হতে পারে। আয়কর দফতর এবং বন দফতর দু’দিক থেকেই তদন্ত করছে।

উপসংহার

এই ঘটনা মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে বড় ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শুধু কর ফাঁকির অভিযোগ নয়, কুমির পোষার মতো অস্বাভাবিক ঘটনাও সামনে এসেছে। কুমিরগুলি কেন রাখা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে। আয়কর ও বন দফতরের রিপোর্ট সামনে এলে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে।

প্রিয়ঙ্কার সময় ব্যবস্থাপনার রহস্য: মায়ের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা

Read more

Local News