‘কাফালা’ রদ — অবশেষে মুক্তির স্বাদ!!
সৌদি আরবে দীর্ঘ সাত দশক পর অবশেষে রদ হল কুখ্যাত ‘কাফালা’ (Kafala) ব্যবস্থা — যেটিকে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা আখ্যা দিয়েছিল “আধুনিক ক্রীতদাসপ্রথা”। এই ব্যবস্থার কারণে লক্ষ লক্ষ বিদেশি শ্রমিক, বিশেষত ভারতীয়দের, বছরের পর বছর ধরে শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। এবার সেই ইতিহাসের অবসান ঘটাল সৌদি সরকার, ফলে অন্তত ২৩ লক্ষ ভারতীয় শ্রমিক এর সুফল পাবেন।
🏗️ কী ছিল ‘কাফালা’ ব্যবস্থা?
‘কাফালা’ শব্দের অর্থ পৃষ্ঠপোষকতা বা স্পনসরশিপ। ১৯৫০-এর দশকে তেলশিল্পের প্রসারে বিদেশি শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ব্যবস্থা চালু করে সৌদি সরকার।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রবর্তনকাল | ১৯৫০-এর দশক |
| অর্থ | পৃষ্ঠপোষকতা বা স্পনসরশিপ |
| নিয়ন্ত্রক ব্যক্তি | কাফিল (স্থানীয় স্পনসর) |
| শ্রমিকের অবস্থা | স্বাধীনতা সীমিত, পাসপোর্ট জব্দ |
| সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি | ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ফিলিপাইন |
এই ব্যবস্থায় একজন বিদেশি শ্রমিককে স্থানীয় এক স্পনসরের (কাফিল) অধীনে কাজ করতে হতো। সেই কাফিল নির্ধারণ করতেন শ্রমিক কোথায় কাজ করবেন, কোথায় থাকবেন— এমনকি দেশ ছাড়তেও হলে তাঁর অনুমতি লাগত। ফলে চাকরি বদল, অভিযোগ জানানো, বা দেশে ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
😔 শোষণ থেকে মুক্তি পর্যন্ত পথ
মানবাধিকার সংস্থাগুলি, যেমন Amnesty International এবং Human Rights Watch, বারবার অভিযোগ তুলেছিল— এই ব্যবস্থায় শ্রমিকদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, পাসপোর্ট আটকে রাখা, বেতন না দেওয়া, এমনকি পাচারের ঘটনাও ঘটেছে।
ভারতের কর্নাটকের জেসিন্থা মেনডনকা ছিলেন এমনই এক ভুক্তভোগী। সৌদিতে নার্সের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কাফিল তাঁর কাছে ৪.৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। অবশেষে ভারত সরকারের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
🇸🇦 সৌদি সরকারের বড় পদক্ষেপ
সৌদি শ্রম মন্ত্রক জানিয়েছে, নতুন আইনে বিদেশি শ্রমিকেরা এখন থেকে —
- নিজের চাকরি বদল করতে পারবেন, কাফিলের অনুমতি ছাড়াই,
- বেতন না পেলে অভিযোগ জানাতে পারবেন,
- এবং নিজের দেশে ফিরে যেতে পারবেন স্বাধীনভাবে।
এই পরিবর্তন সৌদির “Vision 2030” সংস্কারের অংশ, যেখানে দেশটি আরও আধুনিক ও মানবিক শ্রমনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
(সূত্র: Saudi Ministry of Human Resources and Social Development)
🌍 ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে
সৌদিতে বর্তমানে প্রায় ২৩ লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। তাদের অধিকাংশই নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও গৃহপরিচারিকা পেশায় যুক্ত। ‘কাফালা’ ব্যবস্থা রদ হওয়ায় তাঁদের জীবনযাত্রার মান, আর্থিক নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে মনে করছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

