তৃণমূলের বিজয়
পূর্ব মেদিনীপুর, কাঁথি: সমবায় ব্যাঙ্ক নির্বাচনে কাঁথিতে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ঝড় উঠল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে এই ভোট অনুষ্ঠিত হলেও, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমঝোতার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে বিজেপির পরাজয় যেন দলীয় রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় ভোট
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রবিবার কাঁথির কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের ১০৮টি আসনে নজিরবিহীনভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় ভোট হয়। নির্বাচনে উত্তেজনা বা অশান্তি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট, এই অঞ্চলে তৃণমূলের শক্তি অপ্রতিরোধ্য। তৃণমূলের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ১০১টি আসন নিজেদের দখলে রেখেছে।
নন্দীগ্রামে তৃণমূল-বিজেপির সমঝোতা
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে সমবায় সমিতির ভোটে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে আসন ভাগাভাগির ঘটনাটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ৫০টি আসনের মধ্যে ৩২টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দখল করেছে তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। বাকি ১৮টি আসনে বিজেপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে, তাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে। এই সমঝোতার বিষয়ে তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষই সরাসরি স্বীকার করেছে।
তৃণমূলের অঞ্চল সম্পাদক অরূপ গোল জানান, “নির্বাচনের খরচ এড়াতে এবং এলাকার মানুষের পরামর্শ অনুযায়ী আসন সমঝোতা করা হয়েছে।” বিজেপির পক্ষ থেকেও একই সুরে বলা হয় যে সমবায় নির্বাচনের খরচ কমানোর জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিপিএমের তীব্র কটাক্ষ
এই সমঝোতা নিয়ে সিপিএমের তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করে বলেন, “নন্দীগ্রামে বিজেপি-তৃণমূল আসলে এক। শুভেন্দু অধিকারী সাজানো বিরোধী। একে অপরের সাহায্য ছাড়া এরা টিকে থাকতে পারবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, “তৃণমূল-বিজেপির এই সমঝোতা স্পষ্ট প্রমাণ যে বামেরা শক্তিশালী হয়ে উঠছে, আর তাদের রুখতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।”
কাঁথিতে সবুজের আবির
কাঁথির সমবায় ভোটে তৃণমূলের এই জয় কার্যত বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা। শুভেন্দু অধিকারীর নিজস্ব গড়ে দলের পরাজয় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির দুর্বলতাকে আরও প্রকট করেছে। কাঁথির রাস্তায় তৃণমূল সমর্থকরা বিজয় উদযাপনে মেতে ওঠে। সবুজ আবিরে ছেয়ে যায় গোটা এলাকা।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের দিশা
এই নির্বাচনের ফলাফল থেকে বোঝা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পূর্ব মেদিনীপুরে তাদের শক্তি ধরে রেখেছে। তবে নন্দীগ্রামে তৃণমূল-বিজেপির সমঝোতার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতা যাঁরা বিজেপির অন্যতম মুখ, তাঁদের গড়ে এই ধরনের সমঝোতা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
একদিকে, তৃণমূল তাদের জয়কে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ফলাফল বলে দাবি করছে। অন্যদিকে, সিপিএম এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিজেপি-তৃণমূলের সম্পর্কের অন্তর্নিহিত দিকগুলো প্রকাশ্যে এনেছে। ফলে, এই নির্বাচন পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপসংহার
সমবায় নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্য এবং বিজেপির পরাজয় পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। তবে নন্দীগ্রামের সমঝোতা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা বিজেপি এবং তৃণমূল দুই দলেরই রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই সমবায় ভোটের ফলাফল পরবর্তী নির্বাচনে দলগুলোর অবস্থানে কী পরিবর্তন আনে।

