মারুতি
উৎসবের মরসুমে যখন দেশের গাড়ি সংস্থাগুলির বিক্রি বাড়ার আশা ছিল, তখনই হতাশার মুখোমুখি হতে হলো। জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে দেশের অধিকাংশ গাড়ি সংস্থার বিক্রি কমে যাওয়ার পর, অক্টোবরেও যে পরিস্থিতি বিশেষভাবে বদলাবে, তা ধরা পড়ল না। বিশেষ অফার, বিপুল ছাড় এবং একাধিক প্রচেষ্টা করেও যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। মারুতি, টাটা, মহিন্দ্রা, টয়োটা এবং হোন্ডার মতো সংস্থাগুলির বিক্রি গত মাসে তুলনামূলকভাবে কমেছে।
মারুতি সূত্রে জানানো হয়েছে, অক্টোবরে পাইকারি বাজারে গাড়ি বিক্রি প্রায় ৫% কমেছে। গত বছর এই সময়ে গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ১,৬৮,০৪৭টি, কিন্তু এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৫৯,৫৯১টিতে। তবে খুচরো বিক্রি কিছুটা বেড়েছে, যা প্রায় ৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। মারুতি কর্তৃপক্ষের পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “গত তিন মাসের তুলনায় অক্টোবরে খুচরো গাড়ি বিক্রি ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে ২ লক্ষের বেশি বিক্রি হয়েছে।” তবে, ডিলারদের গাড়ির মজুতের সময়সীমা দেড় মাস থেকে কমিয়ে এক মাস করা হয়েছে, ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে মারুতি অল্টো, এস প্রেসো, সেলেরিয়ো, ওয়াগন-আর এবং ব্যালেনোর মতো ছোট এবং মাঝারি গাড়ির বিক্রি কমেছে। কিন্তু ইউটিলিটি ভেহিক্যালের (ইউভি) বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১২ হাজারের মতো। হুন্ডাইয়ের তরুণ গর্গ জানিয়েছেন, উৎসবের সময় বিক্রি গত বছরের মতই রয়েছে, তবে ইউভির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং মোট বিক্রির ৬৮% ইউভি গাড়ির অন্তর্ভুক্ত।
টাটা মোটরসের বিক্রি ৪৮,৩৩৭টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮,১৩১টিতে, অন্যদিকে হোন্ডার বিক্রি ২৩% কমে ১০,০৮০টিতে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতির জন্য ইউটিলিটি ভেহিকেলের চাহিদা একটি বড় কারণ, যার ফলে মহিন্দ্রার বিক্রি ২৫% বেড়ে গেছে। তাদের অধিকাংশ গাড়িই ইউটিলিটি ভেহিক্যাল। টয়োটার ক্ষেত্রেও একই রকম চিত্র দেখা গেছে। এমজি মোটরসও বিক্রি বাড়িয়েছে ৩১%।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সামগ্রিকভাবে গাড়ি বিক্রি কমলেও বড় গাড়ি বা ইউভি-র বিক্রি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে, উৎসবের মরসুমে গাড়ি সংস্থাগুলির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিক্রির এই দুঃখজনক চিত্র। উৎসবের সময় সাধারণত গাড়ি বিক্রিতে বৃদ্ধি আশা করা হয়, কিন্তু এবার তা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন এই চিত্রের পরিবর্তন ঘটছে? সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ক্রেতাদের চাহিদা, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বাজারের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করা হতে পারে। কিন্তু যে আশার আলো ছিল উৎসবের মরসুমে, তা যেন গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গেল। দেশব্যাপী গাড়ির চাহিদার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্রেতারা এখন কম খরচের গাড়ির দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন, যা বাজারের সামগ্রিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলছে।
সর্বোপরি, এই পরিস্থিতি গাড়ি সংস্থাগুলির জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের কাছে এখন প্রয়োজন নতুন কৌশল এবং প্রণালী নিয়ে আসা, যাতে ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হন এবং বিক্রি বাড়াতে পারেন। ব্যবসার স্বাভাবিক গতির বাইরে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা এখন সময়ের দাবি।

