Monday, December 8, 2025

উত্তরাখণ্ডের হোটেলে যাদবপুরের অধ্যাপকের মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকাহত সহকর্মীরা

Share

যাদবপুরের অধ্যাপকের মর্মান্তিক মৃত্যু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মৈনাক পাল অস্বাভাবিক এবং মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। উত্তরাখণ্ডের একটি হোটেলের ঘর থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের সঞ্চার করেছে। মৈনাকের গলা এবং হাত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা দেখে সহকর্মীরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এমন একজন মেধাবী এবং প্রিয় শিক্ষকের মৃত্যুতে যাদবপুর এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দুই বন্ধুর সঙ্গে যাত্রা এবং রহস্যময় মৃত্যু

৪৪ বছর বয়সি মৈনাক পাল উত্তরাখণ্ডে দুই বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় তিনি একাই লালকুয়ার একটি হোটেলে উঠেছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে মৈনাকের হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, কারণ মৈনাক ফোনে সাড়া দিচ্ছিলেন না। এর পর হোটেলের কর্মীরা তাঁর ঘরে গিয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করেন এবং শৌচালয়ে তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্ত ও তাঁর হাত এবং গলার গভীর ক্ষত দেখে প্রথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা মনে করা হলেও পুরো ঘটনা ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে।

সহকর্মীদের স্মৃতিচারণ

মৈনাকের সহকর্মীরা তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় জানিয়েছেন, মৈনাক ছিলেন একজন অসামান্য মেধাবী এবং বিনয়ী শিক্ষক, যিনি ছাত্রদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তিনি প্রথমে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতক করেন, তারপর যাদবপুর থেকে স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি সম্পন্ন করেন। কয়েক বছর সরকারি কলেজে পড়ানোর পর ২০২২ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। পার্থপ্রতিম বলেন, “আমরা এক অসাধারণ গবেষক ও মেধাবী মানুষকে হারালাম। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি।”

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবজ্যোতি কোনার মৈনাক সম্পর্কে বলেন, তিনি ছিলেন এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক এবং অনন্য মানুষ, যাঁর মধ্যে অগাধ জ্ঞান ও মনন ছিল। ছাত্রদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও প্রেরণা শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁকে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছিল। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গেও তাঁর ভালো সম্পর্ক বজায় ছিল। দেবজ্যোতি জানান, “মৈনাকের এই মৃত্যু শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় ক্ষতি। ভবিষ্যতে অনেক বড় কাজ করার সম্ভাবনা ছিল তাঁর।”

সহ-উপাচার্যের শোক প্রকাশ

যাদবপুরের সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত তাঁর সহকর্মীকে হারানোর বেদনায় বাকরুদ্ধ। তিনি বলেন, “মৈনাক ছিলেন এক অনন্য গবেষক এবং শিক্ষক। তাঁর ব্যবহার ছিল মৃদুভাষী এবং সকলের প্রতি সমান শ্রদ্ধাশীল। এমন একজন মেধাবী মানুষকে হারানোর শোক সত্যিই গভীর।”

মৈনাকের জীবন ও পছন্দের স্থান পাহাড়ে তাঁর মৃত্যু

মৈনাক পাল ছিলেন একজন প্রথম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র, যিনি দর্শনে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর উভয় স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি পাহাড়কে ভীষণ ভালোবাসতেন, এবং সুযোগ পেলেই সেখানে ছুটি কাটাতে যেতেন। প্রিয় সেই পাহাড়ি রাজ্যেই তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যু হলো, যা তাঁর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে শোক এবং বিস্ময়ের সঞ্চার করেছে।

পরিবার ও সহকর্মীদের শোকবার্তা

মৈনাকের মৃত্যুতে সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং বন্ধুদের মাঝে গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং তাঁর মরদেহ কলকাতায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

Read more

Local News