Monday, December 8, 2025

আর্থিক তছরুপ, গড়াপেটার অভিযোগে গ্রেফতার দক্ষিণ আফ্রিকার তিন ক্রিকেটার

Share

আর্থিক তছরুপ

দক্ষিণ আফ্রিকার তিন প্রাক্তন ক্রিকেটার, লনওয়াবো সতসবে, থামি সোলেকিলে এবং এথি এমভালাতি, সম্প্রতি আর্থিক তছরুপ এবং ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। ২০১৫-১৬ সালের রাম স্ল্যাম টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় ম্যাচ গড়াপেটার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশের বিশেষ শাখা, “হক”, যারা এর আগেও একাধিক বড় ক্রিকেট কেলেঙ্কারি তদন্ত করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই তিন ক্রিকেটার ম্যাচ গড়াপেটার জন্য অর্থ গ্রহণ করেছিলেন এবং অন্যদেরকেও টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে গড়াপেটা করার জন্য তিনটি ম্যাচের প্রস্তাব দেয়ার কথা ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই গড়াপেটা সফল হয়নি বলে জানা গেছে। তবে, তাদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে বিপজ্জনক এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই তিন প্রাক্তন ক্রিকেটারের সঙ্গে আরও চারজনের নাম জড়িয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম গুলাম বোদি, যিনি এর আগেও ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে কারাগারে ছিলেন। এছাড়াও এই চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে প্রাক্তন ক্রিকেটাররা যেমন জিন সিমস, পুমি মাতশিকউয়ি এবং আলভিরো পিটারসেন। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড (সিএসএ) তাদেরকে নির্বাসিত করেছে এবং তদন্তের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এটি দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে একটি বড় কেলেঙ্কারি, যা ক্রিকেট বিশ্বে অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছে হ্যান্সি ক্রোনিয়ের ঘটনার কথা। ২০০০ সালে হ্যান্সি ক্রোনিয়ের ম্যাচ গড়াপেটায় জড়িত হওয়ার পর এটি ছিল ক্রিকেটের প্রথম বড় ম্যাচ গড়াপেটার ঘটনা, যা পুরো ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান তদন্তকারীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, তারা এই ঘটনার মাধ্যমে খেলার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সফল হবেন।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল গডফ্রে লেবেয়া, যারা তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি বলেছেন, “ম্যাচ গড়াপেটার মতো ঘটনা খেলার মূল অস্তিত্বকে নষ্ট করে দেয়। আমরা চেষ্টা করছি খেলার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছে, যাতে এই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যায়।”

এই ধরনের ঘটনা ক্রিকেটের প্রতি দর্শকদের বিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারে, এবং এই কেলেঙ্কারি কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যও এক বড় বিপদ হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ ও ক্রিকেট বোর্ডের তদন্তের দিকে নজর রয়েছে পুরো বিশ্বের, এবং এর পরিণতি কেমন হয়, তা জানার জন্য সকলে অপেক্ষা করছেন।

Read more

Local News