আরএসএসের মতো কৈশোরকে ছুঁতে চাইছে সিপিএম
আরএসএসের মতো সাংগঠনিক সাফল্য অর্জনে কিশোর বয়সকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করছে সিপিএম। দলীয় নেতারা স্বীকার করেছেন, কৈশোরকে ছুঁতে না পারলে তাদের ভবিষ্যৎ সংকটাপন্ন হতে পারে। তাই রাজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে সিপিএম নতুন এক সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করছে। এর মূল লক্ষ্য কিশোরদের মানসিকতা এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব বিস্তার করা।
কিশোর বয়সকে কেন টার্গেট করছে সিপিএম?
বর্তমানে আরএসএস সমাজের বিভিন্ন স্তরে যে ভাবে প্রভাব বিস্তার করছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাদের শক্তিশালী শাখাগুলি কৈশোর থেকেই মস্তিষ্কে ‘দর্শন’ তৈরি করে। সিপিএম মনে করছে, কিশোরদের সাংগঠনিক চর্চার মধ্যে না আনতে পারলে আরএসএসের মতো শক্তির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়। কেরলে সিপিএমের ‘বালাসঙ্গম’ নামের সংগঠনটি এর উদাহরণ, যেখানে শিশু-কিশোরদের একত্রিত করে তাদের চরিত্র গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাতেও কিশোরদের নিয়ে ‘কিশোরবাহিনী’ রয়েছে, তবে তার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই এই সংগঠন সীমাবদ্ধ থেকেছে।
আলিমুদ্দিনের পরিকল্পনা কী?
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, কেরলের মতো ‘বালাসঙ্গম’ তৈরি করার পরিকল্পনা বাংলার বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। তাই দল একটি নতুন রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করছে। এই রূপরেখার মূল বিষয় হবে শরীরচর্চা এবং সাংস্কৃতিক চর্চা। এখানে সরাসরি রাজনীতির ছোঁয়া না থাকলেও দলের নির্দিষ্ট আদর্শ বা দর্শন থাকবে। তবে নেতারা মনে করছেন, এমন সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করতে তাদের ধৈর্যশীল এবং কর্মক্ষম নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা বর্তমানে অনেক জায়গায় অনুপস্থিত।
সঙ্ঘের শতবর্ষ এবং সিপিএমের চ্যালেঞ্জ
আরএসএস ২০২৫ সালে শতবর্ষ উদ্যাপন করতে চলেছে। তারা ইতিমধ্যেই তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ করেছে, যেমন জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার, তিন তালাক প্রথার বিলোপ। অন্যদিকে, সিপিএম তার শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও তেমন অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। বিশ্বব্যাপী কমিউনিজমের পতনের প্রেক্ষিতে ভারতে এর পুনরুত্থান সম্ভব কি না, তা নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে।
কিশোরদের দলে আনার চ্যালেঞ্জ
সিপিএমের বেশ কিছু তৃণমূল স্তরের নেতা মানছেন, আরএসএসের মতো সংগঠন গড়ে তুলতে তাদের কর্মীদের মানসিকতা এবং দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে হবে। দলের অনেকেই এখন সাংগঠনিক চর্চার বদলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী কাজের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।
রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
২০১১ সালে বাংলার ক্ষমতা হারানোর পর থেকে রাজ্যে আরএসএসের শাখার সংখ্যা বাড়ছে। সিপিএমের একটি অভিমত, তৃণমূলের সঙ্গে আরএসএসের বোঝাপড়ার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। তবে সাম্প্রতিককালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরএসএস সম্পর্কে অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে।
ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি
সিপিএম বুঝতে পারছে যে বাংলার রাজনীতি এখন দ্বিমেরু কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানের সংগঠন এবং নেতৃত্বের ভিত্তিতে এটি সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অবশেষে, কৈশোরকে ছুঁতে এবং সঙ্ঘের মতো শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে সিপিএমের আরও সংগঠিত এবং উদ্যমী হতে হবে। তবে এটি বাস্তবে রূপায়ণ করা কতটা সম্ভব, তা সময়ই বলে দেবে।

