Monday, December 8, 2025

অম্বেডকরের ‘অপমান’ নিয়ে প্রচারে কংগ্রেস

Share

অম্বেডকরের ‘অপমান’ নিয়ে প্রচারে কংগ্রেস

গুজরাত, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় কংগ্রেসের খারাপ ফলের পর, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষের আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অম্বেডকর সম্পর্কে করা মন্তব্যের পর, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তা নিয়ে প্রচারের নতুন রণকৌশল তৈরি করা হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, অম্বেডকরকে এবং ভারতের সংবিধানকে অপমান করা হয়েছে, যা বহু বছর ধরে আরএসএস এবং বিজেপি করে আসছে।

কংগ্রেসের নতুন প্রচারাভিযান

কংগ্রেস ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবস থেকে এক নতুন প্রচারাভিযান শুরু করার ঘোষণা করেছে। এই প্রচারাভিযানের মাধ্যমে কংগ্রেস সারা দেশে ‘জয় বাপু, জয় ভীম, জয় সংবিধান অভিযান’ চালাবে। এর লক্ষ্য থাকবে আরএসএস ও বিজেপির প্রতি আক্রমণ শানানো, যারা বহু বছর ধরে বাবাসাহেব অম্বেডকর এবং দেশের সংবিধানকে অসম্মান করেছে বলে কংগ্রেসের দাবি। কংগ্রেসের নেতা পবন খেরা এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন যে, তারা দেশের প্রতিটি জেলা সফর করে এই বিষয়টি প্রচার করবেন।

১৯৪৯ সাল থেকে অম্বেডকরের অপমান

পবন খেরা ১৯৪৯ সাল থেকে শুরু হওয়া আরএসএসের অম্বেডকর বিরোধী কার্যকলাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে, তখনই আরএসএস তাদের মুখপত্রে ভারতের সংবিধানকে ‘অভারতীয়’ বলে আক্রমণ করেছিল। এছাড়া, অম্বেডকর মহিলাদের সমানাধিকারের কথা বললে, আরএসএস তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছিল। এই অভিযানে কেবল অম্বেডকরই নয়, মহাত্মা গান্ধীও আক্রান্ত হচ্ছেন বলে পবন খেরা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আজ সঙ্ঘ এবং বিজেপি মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসে সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা করছেন, এমনকি তাঁর জন্য মন্দির বানানোর চেষ্টা করছেন।

অম্বেডকরের ভাবমূর্তি এবং সংবিধানকে পরিবর্তনের চেষ্টা

কংগ্রেসের মতে, বিজেপি ও আরএসএস অম্বেডকরের সংবিধান পরিবর্তন করতে চাইছে, যা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে সাহায্য করবে। পবন খেরা আরও দাবি করেন, ‘‘বিজেপি যদি ৪০০ আসন পায়, তাহলে তারা সংবিধান বদলে দিতে পারে এবং ভারতের নোটের থেকে গান্ধীজির ছবি সরিয়ে দিতে পারে।’’ তিনি বলেন, ‘‘এটা তাদের মূল লক্ষ্য, যেখানে গান্ধীজির নীতির বিপরীতে তারা এক নতুন আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।’’

কংগ্রেসের কৌশল: ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে প্রস্তুতি

বিরোধী মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’-র অন্য দলগুলোও অম্বেডকরের অপমানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও, কংগ্রেস এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে, বিজেপির ৪০০ আসন অর্জনের বিপরীতে কংগ্রেস তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করতে চায়। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি আসলে অম্বেডকরের সংবিধান পরিবর্তন করতে চাইছে, এবং এর মাধ্যমে তারা সংরক্ষণ নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় আক্রমণ চালাতে চাইছে।

চিন নীতি ও কূটনৈতিক সমালোচনা

এছাড়া, কংগ্রেসের নেতা পবন খেরা ভারতীয় সরকারের চিন নীতি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি চিন দুটি কাউন্টি তৈরি করেছে, যা ভারতের লাদাখ অঞ্চলে পড়ছে। কংগ্রেসের দাবি, ভারত সরকার এই বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কূটনৈতিক প্রতিরোধ করছে না, বরং বিষয়টিকে হালকা ভাবে দেখা হচ্ছে।

উপসংহার

এখন কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল তাদের এই প্রচারাভিযানকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যাওয়া, যাতে তারা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে একত্রিত করতে পারে। পাশাপাশি, আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ধরনের প্রচারণা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।

রাজ্যে লগ্নি প্রস্তাবের বাস্তবায়নে ফারাক বিশাল, দাবি সরকারি রিপোর্টে

Read more

Local News