দীপিকার ওজন নিয়ন্ত্রণ
অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অনুভূতি সত্যিই বিশেষ। তবে, যখন গর্ভে সন্তান আসে, তখন শরীরে একাধিক পরিবর্তন ঘটে, যার মধ্যে অন্যতম হল ওজন বৃদ্ধি। এই সময় অনেকে উদ্বেগের মধ্যে পড়েন এবং চারপাশের মানুষের কটু মন্তব্য তাদের হতাশ করে তোলে। বিশেষ করে, যাঁরা হালকা বা স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলেন, “সাধারণত অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ৯ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি হতে পারে।” কিন্তু, অনেক ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে, যা শরীরে নানা রোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই হবু মায়েদের জন্য প্রতি মাসে ২ কেজির বেশি ওজন বাড়লে সতর্ক হওয়া জরুরি।
সম্প্রতি অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যে কৌশলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন, সেটি দৃষ্টান্তস্বরূপ। তিনি গর্ভাবস্থায় খুব বেশি মেদ জমতে দেননি। তাহলে, কীভাবে শরীর ও সন্তানের স্বাস্থ্যের খেয়াল রেখে হবু মায়েরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন? আসুন জানি কিছু কার্যকর টিপস।
১. ছোট খাবার, বার বার: একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া পরিহার করুন। বরং, ২-৩ ঘণ্টা পর পর হালকা স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খান। এটি হজমের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে এবং শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমাতে বাধা দেবে।
২. পানি খান: যথেষ্ট পরিমাণে জল পান করুন। জল হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করে। বাড়ির বাইরে থাকলে একটি বোতল সঙ্গে রাখতে ভুলবেন না।
৩. কার্বোহাইড্রেট কমান: বিশেষ করে মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি নজর দিন। তাদের পরিবর্তে প্রোটিন ও ফাইবার যুক্ত খাবার খান। বাইরের খাবার, যেমন জাঙ্কফুড ও মিষ্টি খাদ্য এড়িয়ে চলুন। বাড়ির রান্না করে খাওয়া স্বাস্থ্যকর।
৪. শারীরিক কার্যকলাপ: অন্তঃসত্ত্বা হলে নিজেকে অসুস্থ ভাবার প্রয়োজন নেই। বরং, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, যোগাসন, ও সাঁতার কাটা ভালো। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দৈনন্দিন কাজের মধ্যে থাকুন।
৫. স্বাদের সঙ্গে আপস: অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অনেকেরই ভাজাভুজি এবং মিষ্টি খাবারের প্রতি ঝোঁক বেড়ে যায়। তবে, এই সময় স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলো বেছে নিন। যেমন, মিষ্টি খাবার খেতে চাইলে আপেলের সঙ্গে পিনাট বাটার বা খেজুর-কিশমিশ খান। ভাজাভুজির পরিবর্তে বেক করা রাগি চিপ্স বা মিষ্টি আলুর চিপ্স বেছে নিতে পারেন।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কিছু নিয়ম ও সতর্কতা মেনে চললে সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। দীপিকার মতো হবু মায়েরা নিজের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সন্তানের স্বাস্থ্যও ঠিক রাখতে পারেন, যা গর্ভাবস্থার সময়কে আরও সুন্দর করে তুলবে। সুতরাং, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে এই বিশেষ সময়কে উপভোগ করুন!

